বাংলাদেশ-এর প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এবং খানাভেদে এই হার প্রায় ৯৯ শতাংশ। তবে স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও এখনো বড় একটি অংশ ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়েছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক’ জরিপ অনুযায়ী দেশে প্রায় ৪১.৬ শতাংশ মানুষ এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে।
জরিপে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার মোট জনসংখ্যার ৫৮.৪ শতাংশ, যা সংখ্যায় প্রায় ৭ কোটি ৬ লাখ মানুষ। এর বড় অংশই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড মিলিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ কোটির বেশি। তবে এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
জরিপে আরও দেখা যায়, দেশে মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি, তবে নিজস্ব ফোন ব্যবহার করেন ৬৫.৫ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে মাত্র ১১.৪ শতাংশ মানুষের।
খানা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী ৫৭.২ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পায়, যদিও প্রায় সবাই বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায়। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে ইন্টারনেট প্রাপ্যতা ও খরচ এখনো বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক তুলনায় আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ডিজিটাল ইনসাইটের তথ্য অনুযায়ী মালদ্বীপ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা-সহ অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেটের দাম, গতি ও গ্রামীণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এই পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ। নীতিগত সহায়তা না বাড়লে ইন্টারনেট বিস্তারে গতি আসবে না বলেও মত দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন